হাটার ইচ্ছা হারিয়ে ফেলল হঠাৎ।
এতদিন কিছু পায়নি বলে নয়,
লক্ষ্য কোথায় জানা নেই বলে নয়,
নয় কোন হঠাৎ আবিস্কারে।
শুধুই ক্লান্তিতে-কোন কিছুরই ইচ্ছা জাগেনা আর।
কেন আর এই হাতড়ে হাতড়ে চলা!
চারদিক আঁধো-অন্ধকারে-
পথ নেই তবু যেন পথের মাঝে
দাঁড়িয়ে থাকে একলা একটিজন।
রাতজাগা পাখির কর্কশ চিৎকারে-
হঠাৎ যদিও থমকে ওঠে মন,
ফিরে যায় ফের শূণ্যতারই মাঝে।
বহুদূর থেকে ভেসে আসে কোন কুকুরের ডাক
ঘুমিয়ে পড়ার আগে,
বিরক্তিতে ভূরু কুঁচকায় যত ঘরোয়ার দল।
একটু হলেও মনে ফিরে চলে আসে-
আশঙ্কা আর দুশ্চিন্তার অন্তহীন জাল।
আর সে?
বহুদিন ধরে নিজের ভেতরই ডাকছে যেন কেউ,
কুকুরের ওই ডাকে-একটিবারও ভাবনা আসে না মনে।
স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে সে।
চারিদিকে যেন নিশ্চল সব শুধু-
মাথার উপর গড়াতে থাকা চাঁদ-
হলদে দাঁতে হেসে মিলিয়ে যায়।
পরিহাস করে; হবেও বা তাই,
এতদিন ধরে দেখে, চাঁদও হয়ত গেছে বুঝে,
থামা ছাড়া তার আর কোন পথ নাই!
একটু যেন কেঁপে ওঠে সে।
পৌষের এই হিমেল হাওয়া কাঁপিয়ে দিল তারে?
হাওয়াতো এমন বইছে অনেকক্ষণ,
কখোনো তো সে কাঁপেনি এমন করে।
কী এমন, যা পাথরের মত মনে-
আলোড়ন তুলে নাড়িয়ে দিল কিছু?
নিজেও বোধহয় খোঁজার চেষ্টা করে।
পারবে কি সে?
অন্ধকারতো গাঢ় থেকে গাঢ়তর,
চাঁদ হারিয়েছে সেই কত্ত আগে!
আগের মতই ঠায় দাঁড়িয়ে সে।
একটু কেঁপেই থেমে গেছে একেবারে।
শেষ হয়ে গেল? হতেই পারে।
কঠিন শৈত্য অবশেষে জয়ী হয়ে-
চারপাশ হতে ঘিরে এসে তারে,
জমিয়ে দিয়েছে হয়ত চিরতরে।
অদেখা কুকুর কেঁদে যায় একভাবে,
রাতপাখিও যেন চিৎকার করে হঠাৎ।
কিন্তু তার কিছুই ঢোকে না কোন ঘরোয়ার কানে,
সবাই এখন স্বপ্নে কাটায় রাত।
অন্ধকারে নিশ্চল তার দিকে-
একটিবারও দৃষ্টি পড়ে না কারও,
সে হয়ে রয় অন্ধকারের অংশ।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন