ঢাকায়
আসার পর আমি প্রায় পুরোপুরি ঘরকুনো হয়ে গেছি। নিতান্তই বাইরে যেতে না হলে
আমি পারতপক্ষে রাস্তায় নামি না। কেন সেটার কারণ আমার কাছে স্পষ্ট, তাই সেটা
নিয়ে কথা বাড়িয়ে লাভ নেই। বসুন্ধরা এলাকাটাই মোটামুটি আমার নির্বাসনের
জেলখানার সীমা। অথচ নিজের জেলা শহরে এর উলটোটাই ছিলাম। পুরো শহর প্রায় চষে
বেড়াতাম আর প্রচুর হাঁটতাম। কিলোমিটারের পর কিলোমিটার হেটে গেছি যেদিন
যেদিকে যেতে ইচ্ছে হয়েছে। আজকে আমেরিকান ছাত্রটির সাথে বাংলা চর্চা শেষ করে
বের হয়ে কেন জানি বাসায় ফিরতে ইচ্ছা হল না। ছয়টা বাজে। ছুটির দিনের
সন্ধ্যায় রাস্তাঘাট গমগম করছে মানুষের চলাচলে। আমিও মিশে গেলাম জনস্রোতে।
অনেকদিন পর আবার মনে হল, কয়েকঘন্টা হেটে দেখা যাক। যমুনা ফিউচার পার্কের
সামনে গিয়ে দেখি মানুষ উৎসবমুখর পরিবেশে ভিতরে ঢুকছে। একসাথে এত কিছিমের
মানুষ দেখার লোভে আমিও স্রোতের সাথে ঢুকে পড়লাম। ফিউচার পার্ক আমার কাছে
এখনও যথেষ্ট গোলকধাঁধা। একদিক দিয়ে গিয়ে ঘুরে আবার সেদিকেই ফিরে আসি। আর
আমার তাতে আপত্তিও নেই কারণ আমার তো কোন উদ্দেশ্য নেই, আমি তো কিছু খুঁজছি
না। একদম উচ্চবিত্তের কপিরাইট করা শোরুমগুলো বাদ দিলাম। কারণ ওখানে
মধ্যবিত্ত খুব বেশী ঢোকে না। তাই বৈচিত্র্যও কম। অনেকটা কাঁচে ঘেরা
প্রাণহীন নিশ্চল শোকেসের মত। কাপড়ের দোকানও বাদ দিলাম, ওদিকে আমার তেমন
আগ্রহ নেই। প্রথমেই ঢুকলাম আড়ঙে, অনেকরকম জিনিসপাতি সেখানে তাই ক্রেতাদের
বিস্তারও অনেক বেশী। মধ্যবিত্ত, উচ্চবিত্ত সবাইই সেখানে আছেন। যাদের একটু
বাজেট কম তারা মুখচোখ শক্ত করে জিনিসপত্র দেখছেন। তাদের মুখ একটু তুলনামুলক
বেশী সিরিয়াস ভারী পকেটওয়ালাদের থেকে। সেলসম্যান যাতে তাদেরকে একটু
গুরুত্বপূর্ণ ভাবে, তার জন্যই এই আলগা গাম্ভীর্য। এই শ্রেণীর ক্রেতার বাছাই
দেখাও একটা মজার ব্যাপার। নানারকম মোটামুটি ফালতু জিনিসে ভরা আড়ং থেকে বের
হওয়ার সময় চোখ গেল ওখানকার গার্ডদের দিকে। বেচারারা বড় আশা করে থাকে কখন
কেউ একটু ছোটখাট ভুল বা অনিয়ম করবে। তাহলে তারা একটু কথা বলার সুযোগ পায়।
নইলে সারাদিন মুখে কুলুপ এটে কাঁচের দরজা টানা আর ইতস্তত ঘুরে বেড়ানো ছাড়া
তাদের কিছু করার নেই। একজন ব্যাগ নিয়ে ঢুকে যাচ্ছিল দেখে তার দিকে প্রায়
কয়েকজন গার্ড একসাথে প্রবল উৎসাহে এগিয়ে গেল। বেচারারা! পুরো তিনটা ফ্লোর
প্রতিটা কোনায় কোনায় ঘোরা শেষ করে গেলাম পাঁচতলায় ফোনের দোকানে। এটাও বেশ
ইন্টারেস্টিং জায়গা। সাধারণত যারা প্রায় কয়েকমাস ধরে জমিয়ে জমিয়ে হাজার
দশেক টাকা কোনমতে জড় করে ফোন কেনার জন্য, তারাই এখানে ভীড় করে বেশী।
দোকানের সবচেয়ে দামী ফোনগুলো নেড়েচেড়ে দেখে, একটু ইন্টারনেটে ঢোকে। তারা
জানে যে ঐ ফোন সে আরও কয়েকবছরেও হয়ত কিনতে পারবে না কিন্তু কিছু টাকা জমিয়ে
যে তারা ক্রেতা শ্রেণীর মধ্যে অন্তত ঢুকেছে সেই কারনেই ফোনগুলো ধরে দেখতে
তাদের খুব ভাল লাগে। কেউ কোন ফোন গিয়ে ধরলেই দোকানের বিক্রয়কর্মীরা তাদের
পাশে বা পিছনে গিয়ে নিঃশব্দে দাড়াচ্ছে। যতটা না সাহায্য করা বা তথ্য দেবার
গরজ তার থেকে বেশী ফোনটা কে কীভাবে ধরছে, কিছু করে ফেলছে কিনা ইত্যাদি নজরে
রাখার জন্য। মানুষে মানুষে অবিশ্বাস দেখে সত্যিই বেশ কৌতুক লাগে। মলের
অন্যতম দর্শনীয় বিষয় ছোট বাচ্চা। কেউ কেউ মাটিতে গড়াচ্ছে, কেউ মা-বাবার হাত
ধরে ঝুলে পড়ছে, কেউ চলন্ত সিড়ির উলটো দিক দিয়ে নামা বা ওঠার চেষ্টা করছে,
কেউ পিছল টাইলসে স্কী করার চেষ্টা করছে, কেউ বা চিৎকার করে প্রায় পুরো
ফ্লোরের মনযোগ একাই কেড়ে নিচ্ছে। শেষ শ্রেণীর বাচ্চারা যে বড় হয়ে ফেসবুকে
ফেম seeker সেলিব্রেটি হবে তাতে আর সন্দেহ নেই! উপরে গেলাম ফুড কোর্টে।
একজায়গায় দেখি প্রচন্ড আলোর ঝলকানি আর উদ্দাম সুরে গান হচ্ছে। মানুষের ভীড়ও
সেদিকে কম নয়। গেলাম এগিয়ে। গিয়ে দেখি এক খাবারের দোকান বিশাল এক স্ক্রিন
বসিয়েছে উপরে। সেখানে হিন্দি সিনেমার গান দেখানো হচ্ছে আর নানারকম
শক্তিশালী লাইট ফেলে কনসার্টের আমেজ দেওয়ার চেষ্টা চলছে। রকম দেখে মনে হল
মানুষ খাবারের থেকে হিন্দি গানই বেশী করে গিলছে। এদিক সেদিক ঘুরে বেড়াচ্ছি।
নানারকম খাবারের সুঘ্রাণ নাকে সুড়সুড়ি দিচ্ছে। আমার খিদেও লেগেছে একটু
একটু। কার্ডে যে পরিমাণ টাকা আছে আমি অনায়াসে এখানকার যেকোন রেষ্টুরেন্টে
ঢুকে যেকোন কিছু খেতে পারি। কিন্তু আমি তো আজ খেতে আসিনি, আমি এসেছি দেখতে।
তাও হয়ত কোথাও ঢুকেই যেতাম, কিন্তু এক জায়গায় দেখি এক বয়স্ক ভদ্রলোক হাতে
ফোনখানা নিয়ে এদিক সেদিক তাকাচ্ছেন। অনেককিছুই কিনেছেন দেখা গেল। আমাকে
দেখে কেন জানি আমার দিকেই এগিয়ে এলেন।
“বাবা, আমার একটা ছবি তুলে দিতে পারবা? পিছনে যেন ঐ লাইটগুলো থাকে!”
বলে ফোনটা তুলে দিলেন আমার হাতে। কয়েক এঙ্গেলে দিলাম তার ছবি তুলে। ছবি দেখে তিনি মহাখুশী,
“বাহ্ সুন্দর এসেছে তো!”
ভদ্রলোককে নিজেতে মুগ্ধ করে আমিও আর দাড়ালাম না ওখানে। আগে যখন হাটতে বের হতাম তখন একটা নিয়ম থাকত, যদি পথে কারও সাথে আমার কোন কথাবার্তা হয়ে যায় তাহলে ঐ পথে বা ঐ এলাকায় ঘোরা তখনই শেষ। আজও বুঝলাম যমুনা থেকে বের হওয়ার সময় হয়ে গেছে। বের হয়ে এগিয়ে গেলাম বসুন্ধরা গেটের দিকে। অনেক পরিবার যমুনা থেকে বের হয়ে বাড়ির দিকে যাচ্ছে। হেটেও যাচ্ছে অনেকে। চোখে পড়ল এক মা আর তার বাচ্চা মেয়েটা রাস্তার পাশের খাবারের দোকান বা কার্টগুলোতে যাচ্ছে কিন্তু কিছুই কিনছে না। তারা এগিয়ে যাচ্ছে গেটের দিকে, আমারও আগ্রহ হল দেখার যে তারা অবশেষে কী খায়। অবশেষে মা থামল পিঠার দোকানে। মেয়েকে ডেকে বলল, “আয় ভাপা পিঠা খাই!” মেয়েটা হয়ত আইসক্রিম বা স্ন্যাকস্ই বেশী পছন্দ করত কিন্তু লক্ষী মেয়ের মত মায়ের পাশে দাঁড়িয়ে গেল। দুইজনে ধোঁয়া ওঠা পিঠা খেতে লাগল দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে। কিন্তু আমার তো দাড়ালে চলবে না। এগিয়ে গেলাম আরও। রাস্তা পার হয়ে আরও বেশ খানিকটা দূর গুলশানের দিকে। কিন্তু একসময় তো ফিরতে হবেই। রাত তখন আটটা। জোর কদমে হাটতে শুরু করলাম। বসুন্ধরা গেটের কাছে পৌছে রাস্তা কেবল পার হয়েছি, হঠাৎ শুনি চলন্ত বাস থেকে চিৎকার। দেখলাম চলন্ত বাস থেকে একটা লোক লাফ দিয়ে নেমে গেল কিন্তু তার কলার ধরে একজন এবং সাথে আরও কয়েকজনও নেমে এল! চলন্ত বাস থেকে হেলপার চিৎকার করে বলতে বলতে গেল
“ভাই ছিনতাইকারী! ধরেন ধরেন!”
আসলে ছিনতাইকারী নয়, পকেটমার। মুহুর্তেই জটলা জমে গেল। এধরণের দৃশ্য সাধারণত খুব নিষ্ঠুর হয়। তবুও উঁকি দিলাম। দেখেই বোঝা যায় হিরোইনখোর। শরীরে আর কিছু অবশিষ্ট নেই। কয়েকটা কিল, চড় থাপ্পড় চলল। কিন্তু লোকটার মধ্যে কোন আবেগ বা উত্তেজনা কিছুই নেই। বেশ শান্তভাবেই মার ঠেকিয়ে বলল,
“ভাইজান আমার কথাডা একবার শুনেন!”
জনতাঃ- রাখ তোর কথা। বাসে উঠলেই খালি দেখি ফোন নাই, টাকা নাই! আজ তোরে খাইছি!
জনতাঃ- ভাই পুলিশ ডেকে পুলিশে দিয়া দেন
জনতাঃ- কত্তবড় সাহস, আমার পকেটে হাত দেয়!
জনতাঃ- বের কর দেখি তোর পকেটে কী আছে!
পকেট থেকে বের হল কম দামী দুটো ফোন। আশ্চর্যের ব্যাপার হল জনগণ এরপর বেশ শান্ত হয়ে গেল। এধরণের ঘটনায় সাধারণত মার বেশ ভালই দেওয়া হয়। এক্ষেত্রে সেটা হল না। লোকগুলোকে মনে মনে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বাসার দিকে এগুতে থাকলাম। এতক্ষনে খিদে বেশ ভালই চাগিয়ে উঠেছে বুঝতে পারছি। রাস্তার উপরেই কার্ট খুলে বসেছে একটা। নতুন আমদানি। বসুন্ধরার এমনিতেই চিকন রাস্তা, তারই একপাশ নিয়ে কার্ট সাজিয়েছে। মারলাম ঢুঁ সেখানে। হাতে গোনা কয়েকটা খাবার। আমি সুযোগ পেয়ে উপদেশ ঝাড়লাম, “কী মামা, আইটেম বাড়াও না ক্যান?” এমনকি কয়েকটা আইটেমের আইডিয়াও দিয়ে দিলাম! দোকানদার উৎসাহের সাথে বলতে থাকল তার কী কী পরিকল্পনা সামনে।
“হ মামা, পিছনে বসার জায়গা বানাইতাছি, এরপর খিচুড়ি পাইবেন, বিরিয়ানি পাইবেন। এখন বসি শুধু বিকালে, এরপর সারাদিনই থাকমু।”
কর্মঠ মানুষের উদ্দমকে সাপোর্ট দেওয়া দরকার। তাই খেলাম কিছু। আহামরি কিছু নয়, কিন্তু ছোট্ট ব্যাবসার এতবড় আশাটাকে কি ছোট করা ঠিক? অবশেষে সোয়া নয়টার দিকে বাসার দিকে আবার হাটা ধরলাম। প্রায় তিন ঘন্টা ধরে টানা হাটছি, কোন ক্লান্তি নেই। নীচে চলছে পা আর উপরে গুনগুণ করে বের হচ্ছে,
“যদি তারে নাই চিনি গো সে কি আমায় নেবে চিনে?
এই নব ফাল্গুনের দিনে- জানি নে জানি নে।”
আজ ফাল্গুন নয়, কিন্তু মনের কাছে তাতে কিছু কি যায় আসে? একদমই না।
“বাবা, আমার একটা ছবি তুলে দিতে পারবা? পিছনে যেন ঐ লাইটগুলো থাকে!”
বলে ফোনটা তুলে দিলেন আমার হাতে। কয়েক এঙ্গেলে দিলাম তার ছবি তুলে। ছবি দেখে তিনি মহাখুশী,
“বাহ্ সুন্দর এসেছে তো!”
ভদ্রলোককে নিজেতে মুগ্ধ করে আমিও আর দাড়ালাম না ওখানে। আগে যখন হাটতে বের হতাম তখন একটা নিয়ম থাকত, যদি পথে কারও সাথে আমার কোন কথাবার্তা হয়ে যায় তাহলে ঐ পথে বা ঐ এলাকায় ঘোরা তখনই শেষ। আজও বুঝলাম যমুনা থেকে বের হওয়ার সময় হয়ে গেছে। বের হয়ে এগিয়ে গেলাম বসুন্ধরা গেটের দিকে। অনেক পরিবার যমুনা থেকে বের হয়ে বাড়ির দিকে যাচ্ছে। হেটেও যাচ্ছে অনেকে। চোখে পড়ল এক মা আর তার বাচ্চা মেয়েটা রাস্তার পাশের খাবারের দোকান বা কার্টগুলোতে যাচ্ছে কিন্তু কিছুই কিনছে না। তারা এগিয়ে যাচ্ছে গেটের দিকে, আমারও আগ্রহ হল দেখার যে তারা অবশেষে কী খায়। অবশেষে মা থামল পিঠার দোকানে। মেয়েকে ডেকে বলল, “আয় ভাপা পিঠা খাই!” মেয়েটা হয়ত আইসক্রিম বা স্ন্যাকস্ই বেশী পছন্দ করত কিন্তু লক্ষী মেয়ের মত মায়ের পাশে দাঁড়িয়ে গেল। দুইজনে ধোঁয়া ওঠা পিঠা খেতে লাগল দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে। কিন্তু আমার তো দাড়ালে চলবে না। এগিয়ে গেলাম আরও। রাস্তা পার হয়ে আরও বেশ খানিকটা দূর গুলশানের দিকে। কিন্তু একসময় তো ফিরতে হবেই। রাত তখন আটটা। জোর কদমে হাটতে শুরু করলাম। বসুন্ধরা গেটের কাছে পৌছে রাস্তা কেবল পার হয়েছি, হঠাৎ শুনি চলন্ত বাস থেকে চিৎকার। দেখলাম চলন্ত বাস থেকে একটা লোক লাফ দিয়ে নেমে গেল কিন্তু তার কলার ধরে একজন এবং সাথে আরও কয়েকজনও নেমে এল! চলন্ত বাস থেকে হেলপার চিৎকার করে বলতে বলতে গেল
“ভাই ছিনতাইকারী! ধরেন ধরেন!”
আসলে ছিনতাইকারী নয়, পকেটমার। মুহুর্তেই জটলা জমে গেল। এধরণের দৃশ্য সাধারণত খুব নিষ্ঠুর হয়। তবুও উঁকি দিলাম। দেখেই বোঝা যায় হিরোইনখোর। শরীরে আর কিছু অবশিষ্ট নেই। কয়েকটা কিল, চড় থাপ্পড় চলল। কিন্তু লোকটার মধ্যে কোন আবেগ বা উত্তেজনা কিছুই নেই। বেশ শান্তভাবেই মার ঠেকিয়ে বলল,
“ভাইজান আমার কথাডা একবার শুনেন!”
জনতাঃ- রাখ তোর কথা। বাসে উঠলেই খালি দেখি ফোন নাই, টাকা নাই! আজ তোরে খাইছি!
জনতাঃ- ভাই পুলিশ ডেকে পুলিশে দিয়া দেন
জনতাঃ- কত্তবড় সাহস, আমার পকেটে হাত দেয়!
জনতাঃ- বের কর দেখি তোর পকেটে কী আছে!
পকেট থেকে বের হল কম দামী দুটো ফোন। আশ্চর্যের ব্যাপার হল জনগণ এরপর বেশ শান্ত হয়ে গেল। এধরণের ঘটনায় সাধারণত মার বেশ ভালই দেওয়া হয়। এক্ষেত্রে সেটা হল না। লোকগুলোকে মনে মনে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বাসার দিকে এগুতে থাকলাম। এতক্ষনে খিদে বেশ ভালই চাগিয়ে উঠেছে বুঝতে পারছি। রাস্তার উপরেই কার্ট খুলে বসেছে একটা। নতুন আমদানি। বসুন্ধরার এমনিতেই চিকন রাস্তা, তারই একপাশ নিয়ে কার্ট সাজিয়েছে। মারলাম ঢুঁ সেখানে। হাতে গোনা কয়েকটা খাবার। আমি সুযোগ পেয়ে উপদেশ ঝাড়লাম, “কী মামা, আইটেম বাড়াও না ক্যান?” এমনকি কয়েকটা আইটেমের আইডিয়াও দিয়ে দিলাম! দোকানদার উৎসাহের সাথে বলতে থাকল তার কী কী পরিকল্পনা সামনে।
“হ মামা, পিছনে বসার জায়গা বানাইতাছি, এরপর খিচুড়ি পাইবেন, বিরিয়ানি পাইবেন। এখন বসি শুধু বিকালে, এরপর সারাদিনই থাকমু।”
কর্মঠ মানুষের উদ্দমকে সাপোর্ট দেওয়া দরকার। তাই খেলাম কিছু। আহামরি কিছু নয়, কিন্তু ছোট্ট ব্যাবসার এতবড় আশাটাকে কি ছোট করা ঠিক? অবশেষে সোয়া নয়টার দিকে বাসার দিকে আবার হাটা ধরলাম। প্রায় তিন ঘন্টা ধরে টানা হাটছি, কোন ক্লান্তি নেই। নীচে চলছে পা আর উপরে গুনগুণ করে বের হচ্ছে,
“যদি তারে নাই চিনি গো সে কি আমায় নেবে চিনে?
এই নব ফাল্গুনের দিনে- জানি নে জানি নে।”
আজ ফাল্গুন নয়, কিন্তু মনের কাছে তাতে কিছু কি যায় আসে? একদমই না।
