২৪ মে, ২০১১

সে(প্রথম অংশ):-প্রখর সূর্যালোকে

নামলই পথে এতদিন পরে সে
পিছনে ফিরে তাকায়নি একবারও
সাফল্য(?) তার হাতে বাঁধা ছিল সত্যিই
কিন্তু পথের টান, তার চেয়ে ছিল অনেকখানি বড়।
শান্তির খোঁজে তৃষ্ণা মেটাতে পথে নামা অবশেষে
হয়ত পাবে, কিংবা পাবে না কিছুই তবু
এসব চিন্তা ভাবেনি কখনও সে।

ঠিক করে দেওয়া বেঁধে দেওয়া শান্তিতে,
অন্যের মত তৃষ্ণা মেটেনি তার।
চোখ কান বুজে ছুটতে ছুটতে হঠাৎ মনে এল
কোথায় শান্তি? কেমন তার আকার?
মিছে হয়ে গেল সব ছোটাছুটি, তুচ্ছ করে ছক
নির্ভার হয়ে সময়ের হাতে তুলে দিল সবকিছু।

বেরিয়ে পড়েই হয়ে গেল দিশেহারা
অগণিত পথ শত শত পথে গিয়ে,
পৌছেছে সব কোথায়, কে তা জানে!
চিন্তার জালে মাথা হয়ে আসে ভার।
সদা ব্যাস্ত যান্ত্রিক এ নগরে
পথ দেখানোর কেউ নেই কোনখানে,
পা বাড়াতেই দ্বিধা ঘিরে আসে তার।
সরল জীবন জটিল হয়ে আসে।

মাথা তুলে শূণ্য আকাশ মাঝে
খোঁজে সে হয়ত দৈব অভয়বাণী
বিষে বিষময় কালোধোঁয়া ভেদ করে
দেখা যায় শুধু ঘন কালো মেঘ, আর-
তারে দোল খাওয়া অজস্র কালো কাক
বুঝতে পারে সে উপরে কিংবা নীচে
ওরাই শুধু তাকিয়ে তার দিকে।
আতঙ্কে সাদা হয়ে যায় মুখখানি

ওর পাশ দিয়ে খুড়িয়ে খুড়িয়ে
হেঁটে যায় এক রুগ্ন কুকুর,
ভয়ার্ত চোখে তাকায় ওর দিকে।
নিজের মাঝে হঠাৎ তাকিয়ে বিহ্বল হয়ে সে,
চমকে দেখে ভয়ে কুকড়ানো মন-
একটু আশা আর অসীম ভয় নিয়ে,
কুকুরের মত তাকিয়ে একভাবে।

দুশ্চিন্তার কালো মেঘ জড় হয়ে,
ঝড় বুঝি ওই উঠল সত্ত্বা জুড়ে
বাইরেও যেন অশান্ত চারপাশে
ছুটছে মানুষ কোন সহজাত ভয়ে।
ঝড়ের দাপটে মেঘগুলো সরে গিয়ে,
প্রখর সূর্য মধ্য আকাশে বসে,
পুড়িয়ে দেয়ার নব অভিযানে নামে।

মাথার উপর জ্বলন্ত কড়া রোদে
মরিচীকা যেন জলে ঝিলমিল করে-
পিপাসার্ত ক্লান্ত তাকে প্রলোভন দিয়ে ডাকে
ঝাঁঝালো রোদের গুমোট গরমে ঘোর লাগা ওই মনে,
এগিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা আবার জাগে।
পিপাসার জল যে করেই হোক পেতেই হবে তাকে
চলতে রাজি সে, যতদিন তাতে লাগে।

সে(শেষ অংশ):-অন্ধকারের গান

অন্ধগলিতে হাটতে হাটতে অবশেষে একদিন,
হাটার ইচ্ছা হারিয়ে ফেলল হঠাৎ।
এতদিন কিছু পায়নি বলে নয়,
লক্ষ্য কোথায় জানা নেই বলে নয়,
নয় কোন হঠাৎ আবিস্কারে।
শুধুই ক্লান্তিতে-কোন কিছুরই ইচ্ছা জাগেনা আর।
কেন আর এই হাতড়ে হাতড়ে চলা!


চারদিক আঁধো-অন্ধকারে-
পথ নেই তবু যেন পথের মাঝে
দাঁড়িয়ে থাকে একলা একটিজন।
রাতজাগা পাখির কর্কশ চিৎকারে-
হঠাৎ যদিও থমকে ওঠে মন,
ফিরে যায় ফের শূণ্যতারই মাঝে।


বহুদূর থেকে ভেসে আসে কোন কুকুরের ডাক
ঘুমিয়ে পড়ার আগে,
বিরক্তিতে ভূরু কুঁচকায় যত ঘরোয়ার দল।
একটু হলেও মনে ফিরে চলে আসে- 

আশঙ্কা আর দুশ্চিন্তার অন্তহীন জাল।
আর সে?
বহুদিন ধরে নিজের ভেতরই ডাকছে যেন কেউ,
কুকুরের ওই ডাকে-একটিবারও ভাবনা আসে না মনে।

 
স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে সে।
চারিদিকে যেন নিশ্চল সব শুধু-
মাথার উপর গড়াতে থাকা চাঁদ-
হলদে দাঁতে হেসে মিলিয়ে যায়।
পরিহাস করে; হবেও বা তাই,
এতদিন ধরে দেখে, চাঁদও হয়ত গেছে বুঝে,
থামা ছাড়া তার আর কোন পথ নাই!


একটু যেন কেঁপে ওঠে সে।
পৌষের এই হিমেল হাওয়া কাঁপিয়ে দিল তারে?
হাওয়াতো এমন বইছে অনেকক্ষণ,
কখোনো তো সে কাঁপেনি এমন করে।
কী এমন, যা পাথরের মত মনে-
আলোড়ন তুলে নাড়িয়ে দিল কিছু?
নিজেও বোধহয় খোঁজার চেষ্টা করে।
পারবে কি সে?
অন্ধকারতো গাঢ় থেকে গাঢ়তর,
চাঁদ হারিয়েছে সেই কত্ত আগে!


আগের মতই ঠায় দাঁড়িয়ে সে।
একটু কেঁপেই থেমে গেছে একেবারে।
শেষ হয়ে গেল? হতেই পারে।
কঠিন শৈত্য অবশেষে জয়ী হয়ে-
চারপাশ হতে ঘিরে এসে তারে,
জমিয়ে দিয়েছে হয়ত চিরতরে।


অদেখা কুকুর কেঁদে যায় একভাবে,
রাতপাখিও যেন চিৎকার করে হঠাৎ।
কিন্তু তার কিছুই ঢোকে না কোন ঘরোয়ার কানে,
সবাই এখন স্বপ্নে কাটায় রাত।
অন্ধকারে নিশ্চল তার দিকে-
একটিবারও দৃষ্টি পড়ে না কারও,
সে হয়ে রয় অন্ধকারের অংশ।



বিচ্ছেদ


গালে হাত দিয়ে মুখটি নীচু করে
একদৃষ্টিতে চেয়ে থাকে মেয়ে সবুজ ঘাসের মাঝে-
নড়ে না একতিলও।
মনের মধ্যে চিন্তার ঝড় বয়ে,
উড়িয়ে দিচ্ছে এতদিন ধরে সাজানো স্বপ্নালোক
কেনই যে হায় এত স্বপ্ন ছিল!

পিছনে হেলে মাটিতে হাত রেখে,
আকাশের দিকে তাকায়ে অন্যজন
উপরের ওই সীমাহীন শূণ্যতা-
পারেনা দিতে মিছে আশ্বাস কোনও
ক্লান্ত বিকেলে থেমে রয় সব কথা
শুধু কান পেতে হাহাকার ধ্বনি শোন।

যদি ওদের হৃদয় দেখতে পেতে,
দেখতে শত শত যন্ত্রনা বিঁধে,
ছিন্ন হয়ে হৃদয় দুখানি রক্তের নদী স্রোতে
ভাসা-ডোবার মধ্যখানে দূর থেকে শুধু দূরে
চলে যায়। আর মিলবে না কোনও কালে।
চিৎকার ভাসে নদীর বাতাস জুড়ে।

আমরা কেন দাঁড়িয়ে ওদের সমুখে?
ভুলে ভরা  কোন মানদণ্ডের বিভেদ প্রাচীর তুলে-
খুঁজি ওদের প্রেমের সার্থকতা?
বুঝতে চাইনা  আমাদেরই কোন ভুলে,
ওদের হৃদয়ে বাজে মরণ ব্যাথা!
শেখেনি ওরা এখনও দাড়াতে রুখে।

তাকায় ওরা পরস্পরের চোখের তারার মাঝে।
যেখানে ভাসত ভবিষ্যতের স্বপ্নের হাতছানি
এখন সেখানে শুধু স্বপ্নের লাশ।
দুইজনে যায় দুই পথে ,নিয়ে-
ভবিষ্যতের কান্নার পুঁজিখানি।
পড়ে রয় শুধু তীব্র দীর্ঘশ্বাস।

বর্তমান

আমি নিশ্চল বসে রই।
অপলক স্থির চোখে চেয়ে দেখি-
সবাই যেন ছুটছে চোখটি বুজে,
একটি দন্ড ফুসরত নেই কারও।
ঘুরছে মহাকাল। তার সাথে-
ছুটছে মানুষ, ছোটা থামে না আজও
ছোটাছুটির এক ছোট্ট ফাঁকতালে,
একলা আমি নিশ্চল বসে রই।

পিছনে তাকাতে ভয় পাই আমি। জানি-
সেখানে সাজানো শত স্বপ্নের শব।
হয়তো তাদের আবছায়াগুলো করবে কলরব,
সমস্বরে সোচ্চারে সব জানতে চাইবে, কেন?
বল কেন আমরা মৃতের কাতারে,
কেন আমাদের রক্তে নিজে হলে রক্তাক্ত?
উত্তর খুজে দিশেহারা হব বলে,
পিছনে তাকানো বারন আমার আজ।
ছুটে চলা এই বর্তমানকে নিয়ে,
শূণ্য হাতে নিশ্চল বসে রই।

ভবিষ্যতের ভাবনা ভাবিনা আর।
স্বপ্নের শবাধারে-
একটি কোণে আশ্রয় আজ তার।
দিন যায়, দিন আসে- তারপর?
বর্তমানকে দূরে ঠেলে আসে নতুন বর্তমান।
ভবিষ্যতের চিহ্ন পাইনা কোথাও।
পৃথিবীর এই মুখরিত নিরালায়,
ক্লান্ত আমি নিশ্চল বসে রই।

১৯ বছর

পার হয়ে গেল বেশকিছুদিন,
কাটবে আরও কিছুকাল।
দিনের আলো ফুরিয়ে নামবে অন্ধকার-
আসবে না নতুন সকাল।
তারপর? তারপর কি জানিনা আমি,
জানতে চেয়ে দিশেহারা হয়ে যাই।
জানতে চাওয়ার কোন অবসরে তাই,
অতীতে ফিরে চলে মন অবিরামই।

১৯ বছর বয়সী স্মৃতির ঘরে,
আনাচে-কানাচে ঘোরে মন আর ভাবে,
কে আমি! কি আমার পরিচয়?”
জানিনা আমি, জানা সম্ভব নয়।

১৯ বছর কাটল একা একা।
সবাই ছিল তবুও কেন জানি,
কোন একজন দেয়নি বলে দেখা,
চিরকাল একা রয়ে-
আঁকি নিজমনে স্বপ্নের মুখখানি।

এত বছরের হিসাবে যাব না আজ
চাওয়া-পাওয়ার অংকের খাতাটায়-
হিসাব যখন মেলে না কখোনই,
কেন করব অকারণ ওই কাজ?

বহুদিন ধরে একা চলা এই আমি,
আমার হয়েই ছিলাম আপন মনে।
কিন্তু আজকে এসে-
কোথায় আমি, সেই বিজয়ীর বেশে?
হারায়েছি তারে, হারায়েছি হায়! কবে,
কবে শেষে পাব আমার আমিকে ফিরে!
এভাবেই আর কয়েকটা দিন শেষে,
হারায়ে কি যাব শত অজানার ভীড়ে?
(২০ আগস্ট,২০১০। জন্মদিনে লেখা)